মেজর সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার ফাঁসি বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়। এর আগে ২ জুন ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতকে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট।
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের প্রদত্ত রায় প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে ওসি প্রদীপকে সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিকটিমের বুকে আঘাত করে বুকের দুটি হাড় ভাঙাসহ গলার বাম পাশের পা দিয়ে চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন ওসি প্রদীপ। আসামি লিয়াকত পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিনহাকে পরপর ৪টি গুলি করেন, সেই গুলির আঘাতেই ভিকটিমের মুত্যু হয়েছে মর্মে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতকে বিচারিক আদালত যথাযথভাবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেয়। রায়ে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাতজনকে খালাস দেয় আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আসামিরা হলেন–সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব, কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিন।
পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। দণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলো। এ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর আসামিপক্ষকে আপিল বিভাগে আপিল করতে হবে। আপিল বিভাগে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।


