বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা লাভের দুই সপ্তাহ না পেরোতেই তা হারিয়ে ফেলেছেন টেক জায়ান্ট ইলন মাস্ক।
নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে হালনাগাদ হওয়া ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৫৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭২৭ বিলিয়ন পাউন্ড)। অথচ ১৪ দিন আগেও তার সম্পদের মূল্য ছিল ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার।
তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হন মাস্ক। একইভাবে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের বড় ধরনের পতনের পর তার সম্পদের মূল্য কমে যায়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় বাড়তে থাকায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়।
মূলধনের ব্যয় বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো নির্মাণের উচ্চ ব্যয় এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কায় প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক শেয়ার বিক্রি শুরু হয়। এতে এনভিডিয়া, ইন্টেল ও এএমডির মতো দ্রুত উত্থান হওয়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও বড় ধাক্কা খায়।
তবে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে স্পেসএক্সের শেয়ারে। জুনের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৩০ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ১৫৬ ডলারে নেমে আসে।
শুধু ২২ জুন, এক অস্থির সোমবারেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এক দিনে ১৬ শতাংশ কমে যায়। এতে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে আনুমানিক ২৪০ বিলিয়ন ডলার কাগজে-কলমে উধাও হয়ে যায়।
এর এক দিন পর তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়, যা তার আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়। টেসলার মোট প্রচলিত শেয়ারের প্রায় ১২ শতাংশের মালিক মাস্ক।
অবশ্য ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা হারালেও মাস্ক এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ এখনও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা অন্য ধনকুবেরদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তার সম্পদের বেশিরভাগই কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। তার মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্পেসএক্সে এবং বাকি বড় অংশ টেসলার শেয়ারে বিনিয়োগ করা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যায়ন পাওয়া প্রবৃদ্ধিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে তালিকাভুক্তির পর অস্থিরতা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এবারের ওঠানামার মাত্রা প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যকার গভীর টানাপোড়েনের প্রতিফলন।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এজে বেলের আর্থিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ড্যানি হিউসন বলেন, ‘স্পেসএক্সের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে অনেক বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্ত মহাকাশ অনুসন্ধান ও এর ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির প্রত্যাশা থেকে আবেগপ্রসূত হতে পারে। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি ও ধৈর্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।’
এদিকে জুলাইয়ের শেষ দিকে কোম্পানির ভেতরের অংশীদারদের ধাপে ধাপে নিজেদের শেয়ার বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম যদি ছয় শতাংশও পুনরুদ্ধার করতে পারে, তাহলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। সে ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বারবার ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার নজির গড়তে পারেন।


