মেঘনা গ্রুপের ৮০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ অনুমোদনের পর বেসরকারি খাতের জন্য এই ধরনের ঋণ গ্রহণের নীতি আরও সহজ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, উচ্চ সুদের স্থানীয় ঋণের বিকল্প হিসেবে কম সুদের বৈদেশিক ঋণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং এ জন্য বিদ্যমান অনুমোদন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হবে।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখনকার নীতি হচ্ছে বিদেশি ঋণকে উৎসাহিত করা। খুব শিগগিরই একটি নতুন সার্কুলার দেওয়া হবে, যাতে বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা যায়।’
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে। সেখানে বিদেশি উৎস থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া গেলে উদ্যোক্তাদের তা গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে।
গভর্নর আরও জানান, বিদেশি মূল কোম্পানি থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিষয়টি জানাতে হবে, যাতে ঋণ পরিশোধের সময় কোনো জটিলতা না হয়।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এল, যখন গত ১৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) থেকে মেঘনা গ্রুপের ৮০ মিলিয়ন ডলারের (স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮৪ কোটি টাকা) ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। চারটি জাহাজ কেনার জন্য নেওয়া ওই ঋণের সুদের হার ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গ্রেস পিরিয়ড দুই বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে একই ঋণের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে নাকচ করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তখন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, আমদানিনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় অঙ্কের ডলার ঋণ ভবিষ্যতে বিনিময় হার অস্থির হলে পরিশোধ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করে ঋণটি অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গ্রহণের পুরো নীতিমালাও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মুদ্রানীতি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনেও মেঘনা গ্রুপের ঋণের প্রসঙ্গ ওঠে। টাইমস অব বাংলাদেশের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ২০২২ সালে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি ঋণের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন।
তবে বিদেশি ঋণের সঙ্গে বিনিময় হার ঝুঁকির বিষয়টি অস্বীকার করেননি গভর্নর। তিনি বলেন, এই ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে এবং বিনিময় হারও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।


