আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের মসলা ও নিত্যপণ্যের বাজারে বইছে অস্থিরতার হাওয়া। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি করা মসলার সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রান্নার প্রতিটি উপকরণের দাম এখন আকাশচুম্বী। উৎসবের আনন্দ উদযাপনে বিরিয়ানি, জর্দা বা সেমাইয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে মধ্যবিত্তের পকেটে বড় ধরনের টান পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে ওঠেছে ইরান থেকে আসা বিশেষ মসলার দাম। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আলুবোখারার দাম প্রায় ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকার আলুবোখারা বর্তমানে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পিছিয়ে নেই পেস্তা বাদামও; ৪১ শতাংশের কাছাকাছি দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় ঠেকেছে। রান্নায় সুগন্ধ ও রঙ ছড়ানো জাফরানের দাম প্রতি গ্রামে ১৮০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা বা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া কিসমিসের দামও কেজিতে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫০ টাকায়, যা প্রায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশের একটি বড় লাফ।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন জানান, ২০১২ সাল থেকে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব মসলা মূলত আফগানিস্তান হয়ে বাংলাদেশে আসত। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধাবস্থা সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। এসব মসলা মূলত ঈদের বিশেষ পদ তৈরিতে অপরিহার্য।
মোহাম্মদপুরের গৃহিণী নাজনীন আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি ঈদেই মসলার দাম বাড়ানো হয়। ঘরোয়া রান্নায় এককভাবে কোনো মসলার পরিমাণ হয়তো খুব বেশি লাগে না, তবে প্রতিটি উপকরণের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দিনশেষে পুরো বাজেটকে এলোমেলো করে দিচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হাওলাদার জানান, আমদানিকারকদের বেঁধে দেওয়া চড়া দামের কারণেই তারা অসহায়। ইরান কেন্দ্রিক এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
অন্যান্য মসলার মধ্যে কাজু বাদাম ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৩৮০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১২৮০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া দারুচিনি কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ১২০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, এলাচের দাম কেজিপ্রতি ৪ হাজার ৪০০ টাকায় সামান্য কমেছে এবং জায়ফল ৮৫০ টাকায় বাড়লেও জয়ত্রীর দাম ৩০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, আমিষের বাজারেও বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। গত কয়েক দিনে ব্রয়লার মুরগির দাম ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৬০ টাকা থেকে ২২৫ টাকায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানি কক মুরগির দাম কেজিতে ২৪০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা বা ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দেশি মুরগির দাম ৫৪০ থেকে ৬০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৬৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
এ ছাড়া পোলাও ও বিরিয়ানির প্রধান অনুষঙ্গ চিনিগুঁড়া চালের দামও ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১০ টাকা থেকে ১৪৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে প্রতিটি খাদ্য উপকরণই যেন সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে ভাগ বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।


