মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা ভালো নেই

মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা ভালো নেই
Advertisement
Advertisement

ইট-পাথরের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে নরসিংদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও মুলিবাঁশের ব্যবহার। এক সময় গৃহস্থালি কাজ ও ঘর সাজাতে এই বাঁশের শিল্প ছিল অপরিহার্য। এখন চাহিদা না থাকায় প্রাচীন এই শিল্পের কারিগর বা ছৈয়ালরা এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আগেকার দিনে মানুষ মুলিবাঁশ দিয়ে ঘরের বেড়া ও সিলিংয়ে শৈল্পিক কারুকাজ করত। তখন এই ছৈয়ালদের ছিল কাজের অনেক কদর ও ব্যস্ততা। বর্তমানে বাঁশের ব্যবহার কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু বয়স ও অন্য কাজে অভিজ্ঞতার অভাবে অনেকে এখনো এই পেশায় পড়ে থেকে ধুঁকছেন। এই শিল্পকে বাঁচাতে কারিগররা এখন সরকারি প্রণোদনা ও নানা সহযোগিতার পথ চেয়ে আছেন।

নরসিংদী সদর উপজেলার দিলারপুর গ্রামের ছৈয়াল নবী মিয়া দীর্ঘ ৬০ বছর এই পেশায় আছেন। তিনি জানান, আগে ঘর তৈরির পরিকল্পনা করলেই মানুষ নকশা ও পরামর্শের জন্য তাদের কাছে ভিড় করত। তখন কাজের চাপে মানুষের কাছ থেকে সময় নিতে হতো। কিন্তু এখন আধুনিক দালানকোঠার ভিড়ে তাদের কাজের চাহিদা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

নবী মিয়া এখন বৃদ্ধ, তাই অন্য কোনো কাজ বা দিনমজুরি করার শক্তি নেই। ফলে কাজ হারিয়ে তিনি এখন পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তার মতো অনেক কারিগরের পরিবার রক্ষা পেত। এই শিল্পীরা এখন কেবল একটু সচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছেন।

আধুনিক যুগে মানুষ এখন ঘরবাড়িতে ইট, পাথর ও টিনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এমনকি পরিবেশবান্ধব মুলিবাঁশের পরিবর্তে এখন রান্নাঘরেও ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও রাবারের শিট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কৃত্রিম পণ্য পরিবেশের ক্ষতি করার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় এসব বর্জন করে প্রাকৃতিক সামগ্রীর ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad