মুদি দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত নয়: রিজভী

মুদি দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত নয়: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ছোট ছোট মুদি দোকানকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের আওতায় আনার সরকারি পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা ও আপত্তি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, এসব ক্ষুদ্র দোকানের আয় অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তাদের ওপর ভ্যাট বা করের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই সংগত হবে না। প্রসঙ্গত, বুধবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুদি দোকানও করের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

রিজভী বলেন, মুদি দোকানদারদের জীবনযাত্রা ও লভ্যাংশ অত্যন্ত প্রান্তিক পর্যায়ের। যারা কর প্রদানের প্রকৃত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে করের জালের বাইরে রয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা উচিত। কিন্তু সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের রুটি-রুজির উৎস এমন ছোট ব্যবসাকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত হবে না।

দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে এমন সমস্ত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে সাধারণ, গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা ও ভরণপোষণ নিশ্চিত হয়। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার এবং জনগণের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের বড় ধরনের ক্ষতি হয়—এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পরও বিএনপিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দলের জনপ্রিয়তাও অটুট রয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। চীনের শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সফরটি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

তিনি আরও জানান, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিশ্বনেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার বক্তব্য এবং বাংলাদেশের কার্যক্রম বৈশ্বিক মঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি মাইলফলক। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, চীন এমন একটি মিত্র দেশ, যা অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কখনো হস্তক্ষেপ করে না। অতীতের একমুখী পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে বর্তমানে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সফল প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে সেই ধারাই দক্ষতার সাথে অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক কার্যক্রমে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, যোগ করেন তিনি।

ভারতের কলকাতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে থাকা একটি সড়কের নাম সম্প্রতি পরিবর্তন করার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়া জানান রিজভী। অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতিবিজড়িত সড়কটির নাম পরিবর্তনকে তিনি ‘রুচিবিরোধী’ কাজ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

এর বিপরীতে বাংলাদেশে এখনো ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নাম বহাল রয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার, উদারতা ও সৌহার্দ্যের পরিচায়ক, যোগ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad