বিগত ২০ বছর ধরে যেসব শিক্ষক গ্রামের স্কুল ফাঁকি দিয়ে শহরে এসেছেন, তাদের আবারও গ্রামে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামে শিক্ষক সংকট থাকবে আর সবাই শহরে এসে সুযোগ-সুবিধা নেবেন, তা হতে পারে না। গ্রামাঞ্চল শিক্ষায় পিছিয়ে থাকতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনা বিভাগীয় অডিটরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর এই সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৬০ হাজার শিক্ষক সংকট নিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতঃপূর্বে নকল বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু গত কয়েক বছরে নকলের প্রবণতা আবার বেড়েছে। যেকোনো মূল্যে এবার নকল বন্ধ করা হবে। এজন্য দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর যোগ করা হতো। এখন আইন পরিবর্তন করে পুরো উত্তরপত্র আবার যাচাই করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যেন কেউ কারচুপি করতে না পারে।
মিড ডে মিল বা দুপুরের খাবার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে। সেখানে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা পচা খাবার দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফারুক আজম মোহাম্মদ আব্দুল সালামের সভাপতিত্বে এই সভায় খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খুলনার ১০টি জেলার পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অংশ নেন।


