মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন শ্রমিকের ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
বুধবার মিছিলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে তারা। সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা, ঘটনায় দায়িত্বশীল প্রত্যেকের বিচার করা এবং রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দিন বলেন, ‘কেমিক্যাল কারখানা স্থাপনে নানা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনা স্পষ্টতই অবৈধ। অথচ এই ব্যবসায়ী শ্রেণি সবসময়ই সহজে লাইসেন্স পেয়ে যায়, যা প্রমাণ করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেবল ধনী শ্রেণির স্বার্থই রক্ষা করে।’
তিনি বলেন, ‘১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হলেও সমাজ ও গণমাধ্যমে এ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনাই হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এই ট্র্যাজেডির বিষয়ে নীরব। অথচ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই শ্রমিকরাই।’
নাঈম উদ্দিন আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে ধনিক ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে, যারা শ্রমিকের পক্ষে নয়, বরং ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তারা নির্বাচনের নামে ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি চালাচ্ছে, যেখানে জনগণের কোনো মুক্তি নেই।’
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আহবায়ক নূজিয়া হাসিন বলেন, ‘মঙ্গলবার মিরপুরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাতে বিস্ফোরণের কারণে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো পর্যন্ত সেটি পুরোপুরি চলে যায়নি বলে আশপাশের ফ্যাক্টরি শ্রমিকরাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন’
‘তবু মালিকরা দুপুর পর্যন্ত তাদের নির্দেশে কারখানা চালু রেখেছিলেন। পরে শ্রমিকরা অসুস্থ হলে বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়েছে। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়েছে, তবু আমরা জানি না ঠিক কতজন এখনো মরদেহ হিসেবে পড়ে আছে, কতজন আহত,’ যোগ করেন তিনি।
নূজিয়া হাসিন বলেন, ‘একটি ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর চিত্র আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে, এক মাসের কাজের বদলে সে আর বাড়ি ফিরে এল না। ভাবুন তার মায়ের কথা: স্বামী নেই, একজন কন্যা মারা গেল। এ মায়ের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমাদের সমাজ কি তাকে সেভাবে সহায়তা করবে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে জামা-কাপড় পরি, যে বইয়ে পড়ি, এগুলো তৈরি করে আমাদের শ্রমিকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি তাদের সঙ্গে সংহতি না দেখায়, তাহলে আমরা মানবিকতায় এবং বন্ধুত্বেও আমরা আলাদা হয়ে পড়ব।’
সমাবেশে বক্তারা, রাষ্ট্র শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যার্থ হয়েছে দাবি করে বলেন, ‘রাষ্ট্র শ্রমিক শ্রেণির অধিকার লঙ্ঘন করলে আমরা সবাই মিলে এর প্রতিহত করব।’


