মিয়ানমারে রাজনৈতিক রদবদলের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বদলে দেওয়া হয়েছে। সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন ওকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই রদবদল হয়। এর আগে, দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনে জান্তা সমর্থকরা বিপুলভাবে জয়ী হয়। অবশ্য সেই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তাই মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ পার্লামেন্টে তার সঙ্গে আরও যে দুইজন অনুগত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।
পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর কারণে অনেক পশ্চিমা দেশ এর মধ্যেই মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরপর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। দেশের বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে জান্তা সরকার শান্তির পথে এগোনোর একটি ধাপ হিসেবে প্রচার করে।
তবে, দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের পর দেশটির জান্তা প্রধান এখন বেসামরিক রূপে ক্ষমতা ধরে রাখার পথে এগোচ্ছেন। সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার এই কৌশলকে অনেকেই তার শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইং এখন বেসামরিক পোশাকে ক্ষমতায় থেকে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবে এই সরকার সেনাবাহিনীরই প্রভাবাধীন থাকবে এবং এটি একটি ‘প্রক্সি সরকার’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাসনভার গ্রহণ করেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি কঠোর সামরিক শাসন চালিয়ে আসছেন, যার মধ্যে গৃহযুদ্ধ, দমন-পীড়ন এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।


