কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা-চাচির ঝগড়ার বলি হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তার। অভিযোগ উঠেছে, ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত চাচিকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
বুধবার বিকালে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা স্বীকার করেছে নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


