জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৬ হাজার ২৪২ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে সরকার।
সোমবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে।
দেশে তীব্র তেল সংকটের মধ্যে অবৈধ মজুত ও সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার অকটেন এবং ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে বিঘ্ন এবং খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ ওঠার পর সরকার তদারকি জোরদার করে। বিশেষ করে কৃষি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মার্চ মাস থেকেই বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক ডিলার ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা বিবেচনায় বাড়তি ডিজেল ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ডিপো ও বিপণন কোম্পানিগুলোকে পর্যাপ্ত মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে দেশের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


