ধানক্ষেতে মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ এবং গোড়া পচা রোগের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেহেরপুরের কৃষক। নানা ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না তারা। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানের ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি কৃষি বিভাগের সঠিক ও সময়োপযোগী পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
গোভিপুর গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৫১ চাষ করেছি। প্রথমদিকে গাছ ভালোই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মাজরা পোকার আক্রমণে জমির একাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এরই মধ্যে নানা কোম্পানির বালাইনাশক ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনোটাতেই কাজ হচ্ছে না। এখন বাকি জমিটা বাঁচাতে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছি।’
আরেক কৃষক নাসির হোসেনের আশঙ্কা গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার কথা থাকলেও এখন ১০ মণও হবে না। শুধু মাজরা পোকা নয়, কারেন্ট পোকা আর গোড়া পচা রোগে গাছগুলো মরে যাচ্ছে।’
কৃষি অফিসে পরামর্শ নিতে গিয়েও তেমন সাহায্য পাননি বলেও অভিযোগ তার।

চলতি বছর হরিরামপুর মাঠে দেড় বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষক আজিজুল ইসলাম। ধানের ক্ষেতে বালাইনাশক দিতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে তিনগুণ। আগে যেখানে এক বিঘায় ৮০০ টাকায় কাজ হতো, এখন সেখানে দুই হাজার টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু ফল তেমন পাচ্ছেন না। মাঠে প্রতিদিনই পোকার আক্রমণ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
মুজিবনগর উপজেলার কৃষক সোহানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ধানের জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে আমরা হাতজাল ব্যবহার করছি। কিন্তু তারপরও পোকার প্রকোপ কমছে না। কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠে তেমন আসছেন না। এখন যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পাই, তাহলে আমরা বড় লোকসানে পড়ব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ২৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। সম্প্রতি আবহাওয়ার তারতম্য ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ধানের মাজরা ও কারেন্ট পোকা এবং গোড়া পচা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জানান, ধানের পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার। লাইন ও গ্রুপিং পদ্ধতিতে ধান রোপণ করলে পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া জমিতে হাতজাল ও অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে নিয়মিত সেচ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন, ফলে বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।


