মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামির আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক বা যাবতীয় নথি প্রস্তুত হয়েছে।
সরকারি ছাপাখানা থেকে ছাপানো সেই পেপারবুক সোমবার হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।
হাইকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ফৌজদারি-১) মো. আব্বাস আলী বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, ডেথ রেফারেন্সের শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ছাপা পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করতে হয়। সরকারি ছাপাখানা থেকে ছাপানো সেই পেপারবুক ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে। এখন আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াগুলো চলছে। সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যক্রম ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর বেঞ্চ নির্ধারণ ও শুনানি শুরু হবে। পেপারবুক প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতি ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন।
মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেয় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ফৌজদারি কোনো মামলায় নিম্ন আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে, সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত। এ অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দণ্ডিত আসামি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও আপিল করতে পারেন। এ ছাড়া আসামির বিবিধ আবেদনও করার সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। তবে শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়। এতে মামলার এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের বক্তব্য, বিচারিক আদালতের রায়সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে।
মাগুরার আলোচিত ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ জুলাই হাইকোর্টে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।
আছিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন টাইমসকে বলেন, ‘আসামির আপিলের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট অর্থদণ্ড স্থগিত করেছে। এরপর মামলার শুনানির আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা হাইকোর্টে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির অপেক্ষায় আছি।’
সাধারণত বছর ও মামলার ক্রম অনুসারে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়ে থাকে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে ২০১৮ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। অবশ্য গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতেও ডেথ রেফারেন্স শুনানির নজির রয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুর হয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।


