বিশ্বের আট হাজার মিটার বা ততোধিক উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে চারটির চূড়া এর মধ্যে স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলী। এই কৃতিত্ব আর কোনও বাংলাদেশির নেই। এবার তিনি বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু জয় করার লক্ষ্য স্থির করেছেন।
‘এক্সপিডিশন মাকালুঃ দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাবর। চট্টগ্রামের পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স এই অভিযানের আয়োজন করেছে। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত এই পর্বতের উচ্চতা ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার বা ২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট।
রোববার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ক্লাবটির সভাপতি ফরহান জামান। বক্তব্য দেন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নিটওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল।
অভিযানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত রয়েছে স্যাম-বন্ড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমান্স গ্রোসারিজ। এ সময় দেশের পর্বতারোহণ মহলের পরিচিত মুখ ও পর্বত অনুরাগীরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাবরের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাবর বলেন, ‘বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটার পর্বত আরোহণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগোচ্ছেন এবং মাকালু সেই লক্ষ্য পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।’
‘এ বছর আমার ইচ্ছে ছিল পাকিস্তানের কারাকোরাম হিমালয়ে অবস্থিত বিশ্বের নবম উচ্চতম শৃঙ্গ নাঙ্গা পর্বত আরোহণের। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব ও পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার কারণে লক্ষ্য পরিবর্তন করে মাউন্ট মাকালুকে বেছে নিয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।
মাকালুকে ‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ খ্যাত উল্লেখ করে বাবর বলেন, ‘এটি খাড়া ঢাল, তীব্র বাতাস এবং চতুর্মুখী পিরামিড আকৃতির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি পর্বত। এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত।’
বাবরের পর্বতারোহণে পথচলা শুরু ২০১৪ সালে; এর আগে ২০১০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে তার হাতে খড়ি। তিনি ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্লাবটির হয়ে হিমালয়ের বিভিন্ন শৃঙ্গে অভিযান চালিয়ে আসছেন।
২০১৭ সালে ভারতের উত্তরকাশীর নেহরু ইন্সটিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি আরোহণ করেন আমা দাবলাম। ২০২৪ সালে একই অভিযানে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে জয় করেন, একই অভিযানে দুটি আট হাজার মিটার শৃঙ্গ আরোহণের নজির নেই আর কোনও বাংলাদেশির।
২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি আরোহণ করেন বিশ্বের দশম উচ্চতম শৃঙ্গ অন্নপূর্ণা-১। একই বছরের সেপ্টেম্বরে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া আরোহণ করেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু, যা কোনও বাংলাদেশির জন্য প্রথম।
মাকালু অভিযানটি হতে যাচ্ছে আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতে বাবরের পঞ্চম অভিযান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৭ এপ্রিল অভিযানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন বাবর। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ শেষে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু হয়ে টুমলিংটার যাবেন তিনি। কয়েকদিনের ট্রেকিং শেষে পৌঁছাবেন বেস ক্যাম্পে, সেখান থেকেই শুরু হবে মূল অভিযান।
বেস ক্যাম্প থেকে ধাপে ধাপে উচ্চতর ক্যাম্পে উঠানামার মাধ্যমে শরীরকে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া হবে। পুরো অভিযানে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫০ দিন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করা হবে বলে জানান অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান।


