মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার সাত মাস পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)।
বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। ওই দুর্ঘটনার সবশেষ রোগী হিসেবে সে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ২১ জুলাইয়ের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেদিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। খুবই সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ছিল আবিদ।
আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট বড় অপারেশন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ১০ বার। তার দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো না লাগায়া ক্ষত জায়গাগুলো শুকাচ্ছিল না।’
আবিদের মুখমন্ডল সবচেয়ে বেশি পুড়েছিল বলে জানান এই চিকিৎসক। গত সাত মাসে তাকে ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়েছে, শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে ২৩ ব্যাগ রক্ত।’
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আবিদুর রহিমের শরীর কম দগ্ধ হলেও আমাদের কাছে তার চিকিৎসা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছিল। যে কারণে ৬ মাস লেগেছে সুস্ধ হতে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল যে ৩৬ জন রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। তার মধ্যে সর্বশেষ রোগী আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছে। এটা অবশ্যই আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।’
ছাড়পত্র পেয়ে আবিদুর রহিম ও তার বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে, আগুনে পুড়ে ও চাপা পড়ে প্রাণ হারায় স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।


