ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। সংঘাত শুরুর পর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
শনিবার থেকে ছয় দিনে এসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার সবশেষ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের চারটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ১০টি (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত), এমিরেটসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, গালফ এয়ারের দুটি (বাহরাইন) এবং ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ফ্লাইট রয়েছে।
বুধবার বাতিল হয়েছে ২৮টি ফ্লাইট। এদিন কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), এমিরেটস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
মঙ্গলবার বাতিল হয় ৩৯টি ফ্লাইট। এদিন কাতার এয়ারলাইন্স, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ) ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে সোমবার। এদিন সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।
রোববার বাতিল হয়েছে ৪০টি ফ্লাইট। এর মধ্যে ছিল–জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালামএয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চারটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নয়টি ফ্লাইট।
শনিবার বাতিল করা হয় ২৩টি ফ্লাইট। বাতিল করা ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল—এমিরেটসের একটি, গালফ এয়ারের একটি, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ছয়টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি ফ্লাইট।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট রিশিডিউল করা হলেও ফ্লাইটগুলো এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইরানসহ কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। অন্যান্য দেশগুলো হলো– ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর ওপর। ফলে ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।


