পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আদিয়ালা কারাগার প্রশাসন। বুধবার কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যুর খবরটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তারা।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়, প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিটিআইয়ের এই প্রতিষ্ঠাতাকে কারাগার থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়নি। কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণেই তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে পারছেন না। তিনি সুস্থ আছেন।
রাওয়ালপিন্ডি কারাগারের কর্মকর্তারাও একই বার্তা দিয়ে বিবৃতিতে দিয়েছেন। এতে বলা হয়, ‘তাকে (ইমরান খান) আদিয়ালা জেল থেকে সরিয়ে নেওয়ার খবর সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পূর্ণ চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।’
পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা কারাগারে যে সুবিধা পাচ্ছেন, তা আমিও আগে বন্দী অবস্থায় পায়নি। তার জন্য যে খাবারের মেনু আসে, তা পাঁচতারকা হোটেলেও পাওয়া যায় না। তিনি কারাগারেও এতোটাই সুবিধা পাচ্ছেন। সেখানে তাকে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত করা হবে এমন চিন্তাও অযৌক্তিক।’
খাজা আসিফ দাবি করেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার কারাগারে একটি টেলিভিশন রয়েছে এবং তিনি যেকোনো চ্যানেল দেখতে পারেন। তার জন্য ব্যায়াম করার মেশিনও আছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমিয়েছি, জেলের খাবার খেয়েছি, আর জানুয়ারির শীতে আমাদের কাছে ছিল মাত্র দুটি কম্বল, গরম পানি ছিল না। তখনকার সুপারিনটেনডেন্ট আসাদ ওয়াররাইচ আমাদের সেল থেকে গিজার পর্যন্ত খুলে ফেলেছিলেন। অথচ পিটিআই প্রতিষ্ঠাতাকে একটি ডাবল বেড ও ভেলভেটের গদি দেওয়া হয়েছে। জেলের লাউডস্পিকারে তার ওয়াশিংটন অ্যারিনার বক্তৃতা নিয়মিত বাজানো হয়।’
ইমরান খানের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা খোদাকে ভয় করুন, সময় কারও নিজের নয়।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে উল্টো নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে পড়েছেন তার তিন বোন নোরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান। ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে তাদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
এরপর থেকে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দ্রুত গতিতে ইমরান খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ গুজবকে সত্য ভেবে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে হট্টগোল তৈরি করেন পিটিআই ও ইমরানের সমর্থকরা। তাদের দমাতে মারমুখী অবস্থান নেয় পুলিশ।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসেও ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পদচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন পিটিআইয়ের সাবেক চেয়ারম্যান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে নিরাপত্তা সম্পন্ন আদালিয়া কারাগারে আটক আছেন।


