ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাগুরার ঈদ বাজারে। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাগুরাসহ সারা দেশের বহু প্রবাসী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যার সরাসরি প্রভাব এখন অনুভূত হচ্ছে মাগুরার স্থানীয় বিপণিবিতানগুলোতে।
সরেজমিনে মাগুরা শহরের বেবি প্লাজা, নূরজাহান প্লাজা ও খান প্লাজাসহ প্রধান মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে কিছু নারী ও শিশুর উপস্থিতি থাকলেও পুরুষ ক্রেতাদের সমাগম নেই বললেই চলে। পণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই তাদের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন না।
সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সনাতুন্দী গ্রামের চঞ্চল মোল্লা জানান, তার ছোট ভাই রুবেল মোল্লা বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। কিন্তু ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রুবেল বর্তমানে চাকরি হারিয়ে সেখানে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন। এমনকি চঞ্চলের নিজেরও পুনরায় সৌদি আরবে ফেরা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
একই ধরণের উদ্বেগের কথা জানান মাঝাইল গ্রামের আশরাফ আলী। তিনি বলেন, সাধারণত ঈদের সময় প্রবাসীরা বড় অঙ্কের টাকা বাড়িতে পাঠান। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এবার অনেকেই টাকা পাঠাতে পারছেন না। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ না হলে এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সদর উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামের গৃহবধূ মনজিলা বেগম বলেন, গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম এবার প্রায় দ্বিগুণ। নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে বাজারে এসে শিশুদের কেনাকাটা করার পর তার নিজের জন্য কিছু কেনার সামর্থ্য আর থাকছে না।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ভিটাসাইর গ্রামের আজগার লস্কর। প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি জাকাতের শাড়ি কিনতে এলেও দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। শহরের চয়নিকা টেইলার্সের মালিক মোহাম্মদ এনামুল হোসেন জানান, আসন্ন অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষ এখন অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করছেন না। ২১ রোজা পার হয়ে গেলেও অনেক দোকানেই কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা সমাগম নেই। বিশেষ করে পুরুষরা এবার আগের তুলনায় অনেক কম কাপড় তৈরি করছেন।
শহরের স্বপ্নীল কসমেটিকসের মালিক স্বপন সাহা বলেন, যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ এক ধরণের আতঙ্কে আছেন এবং বিলাসী পণ্য হিসেবে কসমেটিকসের বেচাকেনা এবার একেবারেই কমে গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাগুরা জেলা বণিক সমিতির আহ্বায়ক মুন্সি হুমায়ুন কবির রাজা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাগুরায় যেন কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে জেলা বণিক সমিতি সজাগ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাজ করে যাচ্ছে।


