মধুপুরে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মধুপুরে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার গোপদ ভিটাবাড়িতে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কবিরাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারীর বাবা। অভিযোগের তদন্তে একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়াগাছা ইউনিয়নের মালিবাজার এলাকার ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির পরামর্শে গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকার মোশারফ হোসেন মুসা ওরফে বাবু কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে বাবু কবিরাজ তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই নারীর বাবার বাড়িতে যান। সেখানে রোগের বিবরণ ও চিকিৎসার খরচ নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে শনিবার ওই নারী তার মায়ের সঙ্গে বাবু কবিরাজের বাড়িতে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মাকে পাশের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে কবিরাজের সহযোগিতায় এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। পরে তার বাবা মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বাবু কবিরাজ ও ইমাম হাসান হৃদয় নামে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ গোপদ ভিটাবাড়ি এলাকার মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছেলে আল আমিন ওরফে সেলিমকে আটক করেছে।

আল আমিন ওরফে সেলিমকে আটকের বিষয়টি জানতে শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগে দুজনের নাম থাকলেও পুলিশ মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে অন্য একজনকে আটক করেছে। এতে পুলিশের তদন্তের বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী নারীর বাবা ও মাকে শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে অযত্ন, অবহেলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন

তবে পুলিশের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ভুক্তভোগী নারী, তার বাবা ও মাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আল আমিন ওরফে সেলিমকে আটক করা হয়েছে।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে যাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিষয়ে তদবির করতে থানায় আসা আইনসম্মত নয়।

তিনি বলেন, বাদীর এজাহারে স্বাক্ষর এবং এফআইআরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাদীর থানায় অবস্থান প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই তাকে পুলিশের সঙ্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী, তার বাবা ও মাকে পুলিশের হেফাজতে রেখে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রোববার তাদের টাঙ্গাইলে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় পরে আবার মধুপুর থানায় আনা হয়। সোমবার সকালে পুনরায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের টাঙ্গাইলে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

ঘটনার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত কবিরাজ ও অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর