ভারতীয় সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের উজ্জ্বল কণ্ঠ আশা ভোঁসলে—তার জীবন যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি আর্থিক সাফল্যও ছিল চোখে পড়ার মতো।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট গানের পাশাপাশি গড়ে তুলেছিলেন শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়। এই পরিমাণ সম্পদ তাকে ভারতের ধনী নারী গায়িকাদের তালিকায় একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যায়।
ক্যারিয়ারের শুরুটা অবশ্য এতটা সহজ ছিল না। একই সময়ে সংগীত জগতে প্রভাবশালী ছিলেন তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর। সে সময় পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও পার্থক্য ছিল স্পষ্ট—যেখানে লতা একটি গানের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা পেতেন, সেখানে আশা ভোঁসলে পেতেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো। তবে এই সীমাবদ্ধতাই তাকে ভিন্নধর্মী গান—বিশেষ করে নাচের বা এক্সপেরিমেন্টাল ট্র্যাক—গাওয়ার সুযোগ দেয়, যা পরবর্তীতে তার স্বাতন্ত্র্য তৈরি করে।
ক্রমে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। রোমান্টিক গান, গজল, ক্লাসিক্যাল—সব ধারাতেই সমান দক্ষতা দেখিয়ে হয়ে ওঠেন অনন্য।
গানের বাইরে তার আয়ের বড় একটি উৎস ছিল ব্যবসা। তার নামেই গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত ছিল এবং প্রিমিয়াম ভারতীয় খাবারের জন্য পরিচিতি পায়।
স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকেও তিনি ছিলেন বেশ সমৃদ্ধ। মুম্বাইয়ের পেডার রোডে অবস্থিত ‘প্রভু কুঞ্জ’ অ্যাপার্টমেন্টসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। পুনেতেও ছিল বিনিয়োগ।
সব মিলিয়ে, আর্থিক সাফল্য তার জীবনের একটি অংশ হলেও, আসল পরিচয় থেকে যায় তার সুরে—১২ হাজারেরও বেশি গানে ছড়িয়ে থাকা এক অবিস্মরণীয় উত্তরাধিকার।


