শেরপুরে বোনের সঙ্গে প্রেমঘটিত কারণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে তারই বন্ধু। হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকালে পিবিআই জামালপুর অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় জামালপুর পিবিআই পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকালে হত্যার প্রধান ও সহযোগী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইসঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করেছে পিবিআই।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে বিকালে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের খেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে মরদেহের পরা ট্রাউজার ও জুতা দেখে নিহতকে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, নিহত আলামিনের বোনের সঙ্গে শুভ নামের তার বন্ধুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও চাপা উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে আলামিন শুভকে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য চাপ দেন।
অন্যদিকে, শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ দেওয়ার জন্য আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা চান। আলামিন পাল্টা শর্ত হিসেবে শুভর বোনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে অপমানিত হয়ে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি করান।
গত ১৩ মে দুপুরে আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে কৌশলে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে আলামিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকার সময় শুভ পেছন থেকে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেন এবং সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখেন। এরপর ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
মঙ্গলবার বিকালে আসামি শুভকে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সহযোগী সম্রাটকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করেছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে শুভ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক শান্ত সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, ঘটনার পরপরই আলাদা দল গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা হত্যার রহস্য বের করা সম্ভব হয়েছে। মামলার আইনি কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।


