বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক উল্লেখ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যুবকেরা বেকার ভাতার জন্য নয়, কাজ করার অধিকার ও দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিল।’
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী জেলা ও মহানগর এবং ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকেরা কি বেকার ভাতার জন্য প্রাণ দিয়েছিল? না, তারা বলেছিল আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না। প্রত্যেক তরুণ-তরুণীর হাতকে মজবুত-দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করব।’
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।’ পুরোনো রাজনীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণ পরিবর্তন চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ‘৫ আগস্টের পর চারদিকে চাঁদাবাণিজ্য শুরু হয়েছে। যারা জনগণের সম্পদ লুট করছে, তাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারকারীদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
‘চোরেরা বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আমরা জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব সেই টাকা ফিরিয়ে আনতে’, বলেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা চলাচলের পথে নারীদের যেন ভয় না থাকে, এমন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি কোনো পেশা নয়, এটি হারাম। ‘ভিক্ষা হালাল, চাঁদা হারাম’, মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট রয়েছে–একটি গণভোটে “হ্যাঁ” এবং অন্যটি সংসদ নির্বাচনে ইনসাফের পক্ষে ভোট। “হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি”, বলেন জামায়াত আমির।
সভায় মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম, নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
সভা শেষে শফিকুর রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভাটি বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে শেষ হয়। সমাবেশ ঘিরে সার্কিট হাউস ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে।


