আগামী বুধবার থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫’ পালন করবে সরকার।
সোমবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এক সংবাদ সম্মেলনে এই সময়সূচি ঘোষণা করেন।
এবারে সপ্তাহটির প্রতিপাদ্য, ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’।
উপদেষ্টা সপ্তাহের কর্মসূচী ঘোষণার পাশাপাশি জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে অসামান্য অবদানের জন্য এবার ১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত থাকবেন, বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেবেন। পাশাপাশি ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানাবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ফরিদা আখতার বলেন, ‘আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জিডিপিতে এর অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। কৃষি জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ‘
তিনি বলেন, ‘দেশে পোল্ট্রি এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্প, যেখানে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৮৫ হাজার ২২৭টি নিবন্ধিত বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার এবং প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ছোট আকারের খামার রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৬৮ কোটি ডিম উৎপাদন হয়।’
এসময় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ পালনে সরকারের কর্মসূচী তুলে ধরেন তিনি।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় প্রাণিসম্পদ পদক ২০২৫ দেওয়া হবে।
এরপর দুপুর ১২ টায় ঢাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার থাকবে র্যালি ও প্রাণিসম্পদ খাত সম্পর্কিত সমস্যা, সম্ভবনা ও করণীয় বিষয়ে সেমিনার।
দেশের প্রাণিসম্পদের সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, দেশীয় প্রাণিসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খামারিদের সচেতন করতে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
যার মধ্যে শুক্রবার গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, শনিবার প্রাণিজ পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা হবে।
এরপর রোববার প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ প্রচার, সোমবার তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং শেষদিন অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
এছাড়া, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা, র্যালি, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পসহ ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হয়েছে।


