বু‌দ্ধিজীবী দিবসে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আ‌লোকসজ্জা; ভিসির খোঁড়া যুক্তি

বু‌দ্ধিজীবী দিবসে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আ‌লোকসজ্জা; ভিসির খোঁড়া যুক্তি
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকসজ্জার চিত্র। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার দিনে বু‌দ্ধিজীবী‌ দিবসে যখন গোটা দেশ শোকে মূহ্যমান, তখন কু‌ড়িগ্রাম কৃ‌ষি বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের (কু‌ড়িকৃ‌বি) চিত্র ঠিক উ‌ল্টো। সেখানে যেন আনন্দের উৎসব, উল্লাস উদযাপন চলছে! রোববার সন্ধ্যার পর বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের দুটি ভাড়া ভব‌নে আ‌লোকসজ্জার চিত্র দেখা গে‌ছে।

কু‌ড়িকৃ‌বি উপাচার্য (‌ভি‌সি) অধ্যাপক ড. রা‌শেদুল ইসলাম বিষয়‌টি‌কে বু‌দ্ধিজীবী‌দের আত্মত্যাগের অবমাননা হি‌সে‌বে মান‌তে নারাজ। তি‌নি ব‌লেন, ‘বিজয় দিবস উপল‌ক্ষে ক্যাম্পাসে দোয়া মাহফিল হয়েছে। বু‌দ্ধিজীবী‌দের প্রতি শ্রদ্ধা জা‌নি‌য়ে কা‌লো ব্যাজ ধারণসহ দোয়া মাহ‌ফিল করা হ‌য়ে‌ছে। আর যারা আলোকসজ্জার দায়িত্ব নিয়েছেন তারা মূলত আলো জ্বলে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অফিসার মূলত বিষয়টি দেখছেন।’

১৯৭১ সালের ১৪ ডি‌সেম্বর দখলদার পাকিস্তা‌নি হানাদার বা‌হিনী ও তা‌দের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী‌দের হত্যা করে। দে‌শের বরেণ্য শিক্ষা‌বিদ, চি‌কিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষকসহ বি‌শিষ্ট ব্যক্তিদেরকে তা‌দের বাড়ি থে‌কে চোখ বেঁধে তুলে নি‌য়ে যায়। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নি‌য়ে গিয়ে তাদেরকে নির্মমভা‌বে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সেই থেকে জা‌তির সেসব সূর্য সন্তান‌দের শ্রদ্ধাভ‌রে স্মরণ কর‌তে প্রতিবছর ১৪ ডি‌সেম্বর ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ বছরও জাতি দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলেও কু‌ড়িকৃ‌বির ক্ষে‌ত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গে‌ছে।

এদিন সন্ধ্যার পর কু‌ড়িগ্রাম জেলা শহ‌রের ভো‌কেশনাল মোড় ও টেক্সটাইল মিলস এলাকার রেল‌গেইট সংলগ্ন কু‌ড়িকৃবির দু‌টি অস্থায়ী ক্যাম্পা‌সের ভাড়া ভব‌নে আ‌লোকসজ্জা দেখা গেছে। শহীদ বু‌দ্ধিজীবী দিব‌সে এমন আলোকসজ্জা সাধারণ মানুষ ও জেলার বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের ম‌ধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতি‌ক্রিয়া সৃ‌ষ্টি‌ করে‌ছে।

কু‌ড়িগ্রা‌ম হানাদার মুক্ত দিব‌সে স্বাধীন বাংলা‌দে‌শের পতাকা উ‌ত্তোল‌নকারী বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে ব‌লেন, ‘এটা‌তো এক প্রকা‌র উল্লাস করা! বু‌দ্ধিজীবী‌দের আত্মত্যা‌গের প্রতি এমন অব‌হেলা, এটা আমা‌দের দুর্ভাগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সবাই শি‌ক্ষিত মানুষ। তারা কোন ম‌নমান‌সিকতা থেকে এটা কর‌লো সেটা নি‌য়ে তা‌দের‌কে প্রশ্ন করা উ‌চিৎ। শোক দিব‌সে তারা কেন আ‌লোকসজ্জা কর‌লো?’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad