কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে। বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই। এটা বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।’
বুধবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১ দিনের বিকালের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে যে বিলটা আনা হয়েছে। সেই বিলে যদি আমরা দেখি এখানে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে; ২(ঘ)-তে সংজ্ঞার মধ্যে আমরা যদি দেখি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহারের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে; রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তি স্বার্থে সংঘঠিত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে- এটাকে একভাবে দেখা হবে। আর আরেকটা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য যেই কার্যাবলীগুলো সংগঠিত হয়েছে-সেটাকে একভাবে দেখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যার জায়গাটা হচ্ছে, সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের সংগঠিত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটি কে ডিফাইন করবে? সেটাকে কিন্তু ডিফাইন করবে এই আইন অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অর্থাৎ এই ইনডেমনিটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরে নির্ভর করবে। এবার এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ সেটা কিন্তু ইতোমধ্যে ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, এটা যদি ২০০৯ সালের অনুযায়ী চলে, তাহলে সেটা কিন্তু পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা মানবাধিকার কমিশন। যেই মানবাধিকার কমিশন বিরোধী দল ও মতকে দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভিকটিম ব্লেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেই মানবাধিকার কমিশনে গুম খুনের বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই মানবাধিকার কমিশনকে যদি আমরা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি এবং ওই মানবাধিকার কমিশনের মধ্য দিয়েই যদি আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কার্যক্রমগুলোকে বিচারের এবং নিরীক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে নিরীক্ষণ কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, তাদের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ধরনের অনুসন্ধান আমরা কতটা পাব, সেটা নিয়ে কিন্তু আমরা সন্ধিহান। সেই জায়গা থেকে এই বিলটিকে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, এটাকে যদি আমরা ফাংশনাল করতে চাই, তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্বশাসিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়েছে, তারাই এটাকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছে।’
‘যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্য করা হচ্ছে সেজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধীদল দমন কমিশন করা হবে না, এটার প্রতি কিন্তু আমাদের আস্থা নেই’- যোগ করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিলটা পাশ হওয়ার আগে আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিল নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। না হয় বিসিবির মতো আমরা আবার বাপের দোয়া কমিশন দেখতে পাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো আবার দলীয়করণ দেখতে পাব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, আমরা সেটি দেখতে পাব।’


