বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে স্বভাবসুলভ শান্ত ও সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লিওনেল মেসি বললেন, ‘আমি খুব ক্লান্ত।’
সোমবার রাতে টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই আর্জেন্টিনার নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার এই ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা একটি পেনাল্টি মিস করেন, জোড়া গোল করেন এবং নিজের টানা গোল করার রেকর্ডটিকে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।
নিজেদের প্রিয় গোলটি বেছে নিতে এবং রেকর্ড ভাঙার অনুভূতি প্রকাশ করতে বলা হলে মেসি তার স্বভাবসুলভ বিনয়ী সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এই জয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিল, একটি কঠিন ম্যাচ ছিল এবং এর জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এটি আমাদের সামনের দিনগুলোর জন্য স্বস্তি দিচ্ছে। নকআউট পর্বে কোয়ালিফাই করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
থিয়াগো আলমাদার চতুর ডামির পর ফাকুন্দো মেদিনার নিচু ক্রস থেকে বাম পায়ের প্রথম স্পর্শের শটে করা তার প্রথম গোলটি পুরুষ ও নারী উভয় বিশ্বকাপ মিলিয়ে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডের সমকক্ষে নিয়ে যায় তাকে। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ স্টপেজ টাইমে জুলিয়ান আলভারেজের শট গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি, যা তার মোট গোল সংখ্যাকে নিয়ে গেছে ১৮ তে, ফুটবলের ইতিহাসে যা এখন এককভাবে সর্বোচ্চ।
ম্যাচের ৯ম মিনিটে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে রাতটি আরও সহজ হতে পারত; ডালাস কাউবয়েজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভেন্যুতে উপস্থিত ৭০,৬৪৯ জন কড়া আর্জেন্টিনা সমর্থকের অবিশ্বাস্য চোখের সামনে তার নেওয়া দুর্বল ও ধীরগতির শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩ নম্বর পেনাল্টি মিস, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।
পেনাল্টি মিসের ব্যাপারে তিনি বেশ শান্তভাবেই মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আজকের দিনটি যেভাবে কেটেছে তা এককথায় অসাধারণ। আমার কাছে পেনাল্টিটি ছিল যা ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত, তবে আমি এই ফলাফলে এবং দলের পারফরম্যান্সে খুশি।”
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানো অস্ট্রিয়া মূলত রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল এবং খুব কম আক্রমণ তৈরি করতে পেরেছিল। রালফ রাংনিকের দল প্রথমার্ধে গোলপোস্টে কোনো অন-টার্গেট শটই নিতে পারেনি; যদিও বিরতির পর তারা কিছুটা উন্নতি করে, যেখানে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কেবল একবারই বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল।
জে গ্রুপে দুই ম্যাচ থেকে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ এখন ৬ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারলে আগামী ৩ জুলাই মিয়ামিতে এইচ গ্রুপের রানার্স-আপ দলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, আর জর্ডান যদি আলজেরিয়াকে হারাতে ব্যর্থ হয়, তবে আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রিয়া নকআউটে যাওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে।


