বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে গুরুত্বের আহ্বান আইন উপদেষ্টার

বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে গুরুত্বের আহ্বান আইন উপদেষ্টার
শনিবার রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

মামলার প্রবহমান ও অস্বাভাবিক চাপ কমানোর জন্য আপস-মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, ‘আদালতে মামলার যে অস্বাভাবিক চাপ, তা শুধু বিচারিক কাঠামোকে নয়, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সম্ভাবনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। নতুন মামলার চাপ কমানো সময়ের দাবি। এ চাপ কমাতে হলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য মামলা দায়েরের পূর্বে আপস-মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা গুরুত্বপূর্ণ।’

শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সম্মেলন কক্ষে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের আদালতগুলোতে প্রায় পাঁচ লাখ মামলার মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার মামলা সরকারি লিগ্যাল এইড সার্ভিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতে যে সময় ব্যয় হয়, তার এক-দশমাংশ সময়ের মাধ্যমে লিগ্যাল এইড অফিসগুলোতে এসব বিরোধ ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে পক্ষগুলোর পূর্ণ সন্তুষ্টিতে নিষ্পত্তি করা হয়।

সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারিত, দক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারলে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মীমাংসিত মামলার সংখ্যা এক থেকে দুই লাখে নিয়ে আসা যাবে। এটি করা গেলে মামলা দায়েরের পরিমাণ ৪০ শতাংশ কমে যাবে, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সংস্কার কার্যক্রমের ব্যাপারে তিনটি টার্গেট করেছি। এর প্রথমটি হচ্ছে, দ্রুত ও স্বল্পতম সময়ে ও অল্প খরচে মামলার নিষ্পত্তি করা।

আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো-ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এর জন্য আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা চিন্তা করছি। এ লক্ষ্যে আমাদের বিচারকদের উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের কথা ও তাদের একাউন্টেবিলিটি বাড়ানোর কথা চিন্তা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তৃতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, মামলার অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া। এই লক্ষ্য পূরণ করতে আমরা আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট যে আইনগুলো আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।

এ ছাড়া জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ও বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীদের বিশেষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্যানেলভুক্তকরণ এবং এ আইনের মধ্যস্থতা-সেবাকে আরও ফলপ্রসূ, কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্দেশে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) বিধিমালা, ২০১৫-সহ সংশ্লিষ্ট বিধি-প্রবিধানমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad