বিয়েতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজনদের দাওয়াত দিলে কত কিছুই না উপহার মেলে। সেই তালিকায় বিছানার চাদর, ফিরনি সেট, ফুলদানি, ডিনার সেট, সোনার গহনা, ওয়ালম্যাট, পানি গরম রাখার ফ্লাস্ক থেকে শুরু করে হেন কোনো জিনিস নেই যে থাকে না।
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এক বিয়েতে উপহার হিসেবে বর রাতুল হাসান সাফি যা পেয়েছেন তা সম্ভবত আগে কোথাও কেউ পায়নি।
রাফি বিয়ের উপহার হিসেবে পেয়েছেন পাঁচ লিটার অকটেন!
অদ্ভুত ও বিষ্ময়কর শোনালেও বর্তমান বাস্তবতায় উপহারটি খুব কাজের।
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। সারাদেশেই সরকার নির্ধারিত মাপে তেল কিনতে হচ্ছে। আর সেজন্য বসে থাকতে হচ্ছে লম্বা লাইনে। কখনো কখনো দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মিলছে না তেল।
জেলা শহর ঠাকুরগাঁওয়ের পরিস্থিতি একই রকম। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল। দৈনিক একটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও সড়কজুড়ে লম্বা লাইন।
এমন বাস্তবতায় সোমবার সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে বৌভাতের অনুষ্ঠানে বরকে উপহার হিসেবে দেওয়া হলো পাঁচ লিটার অকটেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাসান রায়হান নামে এক অতিথি বলেন, এখনকার সময়ে জ্বালানি তেলই সবচেয়ে দামী ও প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই এমন উপহার সত্যিই ব্যতিক্রমী।
জামালি নামে আরেকজন বলেন, এটা যেমন মজার, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিফলনও বটে। এই ঘটনা শুধু হাসির খোরাক নয়, বরং চলমান জ্বালানি সংকটের চিত্রও তুলে ধরে।
কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি এখন মানুষের কাছে প্রায় ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হয়েছে।
অকটেন উপহার দেওয়া ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল–অকটেন পেতে ভোগান্তি চরমে৷ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল মিলছেনা৷ মানুষ দৈনন্দিন কাজ গুলো করতে পারছেননা৷ এমন সময়ে বর–কনে যাতে স্বস্তি আর স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে৷
আবার এটিকে বর্তমান সংকটের প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করলেন তিনি৷
বর রাতুল হাসান সাফি বলেন, বিয়েতে এটি খুবই ব্যতিক্রমী উপহার৷ অকটেন হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে কাজে লাগবে৷
উপহারদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান রাফি।


