দীর্ঘ বিরতির পর চিটাগং কিংস নাম নিয়ে ফিরে এসেছিল বন্দর নগরীর দলটি। মালিক সেই বিতর্কিত সামির কাদের চৌধুরী। এর আগে যখন তার অধীনে মালিকানা ছিল, তখনো পারিশ্রমিক বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়েছিল তার নাম। তবুও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সমঝোতা করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আবার দলে নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। কিন্তু তবুও বদলায়নি কিছু, পারিশ্রমিক ইস্যুতে আবারও শিরোনাম হয়েছে চিটাগং কিংস ও সামির কাদের চৌধুরী।
গত ৯ আগস্ট বিসিবির বোর্ড সভা শেষে পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, গত আসরে চিটাগং কিংসের কাছে কোচ-ক্রিকেটার ও হোটেল বিলের বকেয়া থাকা টাকা তারা পরিশোধ করবেন। এর আগে বিসিবির তরফ থেকে ৪৬ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে সামিরের কাছে একটি আইনী নোটিশ পাঠানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সামির সোমবার বললেন, তার দল নয় বরং বিসিবিই বিপিএলকে বেশি বিতর্কিত করেছে। যদিও তার বিরুদ্ধে চিটাগং কিংসের বিদেশি হোস্ট ইয়াশা সাগর, মেন্টর হিসেবে আসা শহীদ আফ্রিদি, কোচ শন টেইটের পাওনা বকেয়া থাকার অভিযোগ আছে।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের একট রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামির বলেন, ‘অজান্তে আমাকে একটা লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে দিল ৪৬ কোটি টাকার। অথচ এর আগে আমি নিজে থেকেই এসব জানিয়েছি তাদের। বিপিএলকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করেছে বিসিবিই। কারণ হিসেবে বলব এই ৪৬ কোটি টাকার নোটিশ।’
আইনী নোটিশ পাওয়া নিয়ে সামিরের ভাষ্য, ‘৪৬ কোটি টাকা কীভাবে হলো, এটার উত্তর আমার কাছে নেই। বিসিবি সভাপতির সাথে দুই তিনবার কথা হয়েছে, কিন্তু তিনি বেশ ব্যস্ত ছিলেন। বলেছেন আমার সাথে বসবেন, আলোচনা করবেন। তারপর তো বিদেশে চলে গেলেন। আমি নোটিশটা পেয়েছি আজকে মাসখানেক হয়েছে। আমার তরফ থেকে কিন্তু আমি কিছু বলিনি।’
এই আইনী নোটিশ পাঠানোর পর জোর গুঞ্জন আছে আসন্ন বিপিএলে দল দেয়া হবে না সামিরকে। এ নিয়ে অবশ্য সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার প্রশ্ন, বর্তমান ইস্যু সমাধান না করে, কেন অন্য দলকে আনার পরিকল্পনা করছে বিসিবি?
বিসিবির এক পরিচালকের সাথে কথা হয়েছে জানিয়ে সামির বলেন, ‘দল না পাওয়ার ব্যাপারে এক পরিচালককে বলেছি। আমার সাথে তো আপনি সমাধানই করেননি। আমার জায়গায় আরেকজনকে কীভাবে আনছেন? আমার কাছে একটা ডকুমেন্ট আছে। ২০১৮ সালে মাননীয় হাইকোর্টের একটা স্টে অর্ডার আছে। স্টে অর্ডার আমি করব, নইলে বিসিবি করবে। বিসিবি আমার কাছে ৪৬ কোটি টাকা চাচ্ছে। আপনি আমার সাথে সমাধান না করে কেন আরেকজনের কথাবার্তা আনবেন?।’
কী আছে এই স্টে অর্ডারে? মূলত ২০১৮ সালে বকেয়ার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে স্টে-অর্ডার নেয় বিসিবি। সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে গত বিপিএলের আগে কিংসের মালিকপক্ষের সমঝোতা হয় সাড়ে ৩ কোটি টাকায়। সেখান থেকে পাওনা কীভাবে ৪৬ কোটি হলো, তাই নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন সামির।


