বিধানসভায় ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের ডাক মমতার

বিধানসভায় ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের ডাক মমতার
বৈঠকে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই
Advertisement
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ যদি দল ছাড়তে চায়, তারা নির্দ্বিধায় চলে যেতে পারেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যারা অন্য দলে চলে যাচ্ছে, তাদের যেতে দিন। আমি আবার নতুন করে দল গড়ে তুলব।’

‘যারা থাকছেন, তাদের বলছি ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয়গুলো মেরামত করুন, রং করুন এবং আবার খুলুন। প্রয়োজন হলে আমিও রং করব। তৃণমূল কংগ্রেস কখনো মাথা নত করবে না। এই বাংলার মানুষের রায়, তাদের জয় ছিনতাই করা হয়েছে।’

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী দলে পরিণত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের নির্বাচনে ফল কারচুপির এ অভিযোগ তুললেন তিনি।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কেবল ৮০টিতে জয় পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেও হেরে গেছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে।

আরও পড়ুন

তৃণমূল কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয়। দার্জিলিং পাহাড় এলাকার তিনটি আসন তাদের মিত্র দল অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।

টিএমকের ২১১ প্রার্থীই বিশাল ব্যবধানে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে পরাজিত হন, তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীও রয়েছেন।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলত্যাগের জল্পনা ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের খবরের মধ্যেই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচন করা প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটের এ বৈঠক আয়োজন করা হয়।

এ বৈঠকেও নির্বাচনে হারের ক্ষোভ ঝেরেছেন মমতা। এর আগে, গত ৫ মে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দলের কিছু নেতা অন্য দলে যেতে পারেন, সেটি তিনি জানেন।

মমতা বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই অন্য দলে চলে যাবে। তাদের নিজস্ব বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। যে যেতে চায়, সে যেতে পারে। কাউকে জোর করে ধরে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না।’

দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক্স পোস্টে বলা হয়, ‘আজ আমাদের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অকল্পনীয় নির্যাতন ও অব্যাহত ভয়ভীতির মধ্যেও তারা অতুলনীয় সাহস নিয়ে লড়াই করেছেন।’

‘তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ। যারা মানুষের রায় লুট করেছে, তাদের সামনে আমরা কখনো মাথা নত করব না। সত্যের জয় হবেই’, যোগ করা হয় পোস্টে। একই পোস্টে নির্বাচনের ফল ঘোষণায় ‘জনগণের রায় চুরি হয়েছে’ বলে অভিযোগও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad