চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের দায়িত্বকাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক চললেও দাপ্তরিক কাজে অব্যাহত রয়েছে তার সফল পদচারণা। সরকারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী ফোরামে নিজের অবস্থান সুসংহত করে তিনি চট্টগ্রামের জন্য বড় অংকের উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ পেয়েছেন।
রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অংশ নেন ডা. শাহাদাত হোসেন। সেই সভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন নির্মাণের জন্য ৩০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। মেয়রের মেয়াদ নিয়ে চলা বিভিন্ন আলোচনার মধ্যেই এই প্রকল্পের অনুমোদনকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, একনেকের এই সিদ্ধান্ত একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কাজে কোনো স্থবিরতা নেই। বরং মেয়র জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সম্পদ নিশ্চিত করছেন।
২০২১ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। মামলা চলাকালে রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে আদালত ডা. শাহাদাতকে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে এবং শপথ গ্রহণের দিন থেকে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হবে বলে রায় দেয়। মূলত এই রায়ের পর থেকেই তার মেয়াদকাল নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
মেয়াদ নিয়ে এই প্রশ্নের বিষয়ে টাইমস অব বাংলাদেশে’র সাথে কথা বলেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি তার বৈধতার পক্ষে আইনি অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। ডা. শাহাদাত বলেন, আদালত এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্মগুলো তার পাঁচ বছরের মেয়াদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী শপথের তারিখ থেকেই মেয়াদ গণনা করা হচ্ছে এবং তিনি সেই অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালতের রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ডা. শাহাদাতের পাঁচ বছরের মেয়াদ তার দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে শুরু হবে। যদিও অনলাইনে এই নিয়ে বিতর্ক চলছে, তবে দাপ্তরিক ও আইনিভাবে বিষয়টি এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। একনেক সভায় তার উপস্থিতি এবং সফলভাবে প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে নেওয়াকে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের এই বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের প্রায় সব সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছে। এখানে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। জাতীয় ফোরামেও তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই বিতর্ককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিজিবি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, এটি একটি অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক। আদালত তাকে পাঁচ বছর সময় দিয়েছেন। অন্য কেউ বেআইনিভাবে দায়িত্ব পালন করলে সে দায় ডা. শাহাদাতের নয়।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক নাসরুল কাদিরও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শাহাদাতের মেয়াদের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বিচ্যুতি ঘটেনি।
ডা. শাহাদাত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম শহরেও দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শতকোটি টাকার নতুন প্রকল্প এবং জাতীয় পর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মেয়াদ নিয়ে বিতর্কের চেয়ে কাজের মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিতে আগ্রহী মেয়র শাহাদাত।


