বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এগিয়ে নিতে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি সই করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাসে ‘বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিচার সংস্কার সংহতকরণ ২০২৬’ শীর্ষক উদ্যোগে এই চুক্তি সই হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম শক্তিশালী করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচার খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার এবং বাংলাদেশে নরওয়ে রাষ্ট্রদূত হাকন অ্যারাল্ড গুলব্রান্ডসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জাম সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া নবনিযুক্ত সচিবালয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়।
একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, সরকার, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ে সমন্বিত বোঝাপড়া তৈরি করা হবে।
বাংলাদেশ বিচার খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, মেধাভিত্তিক বিচারক নিয়োগ এবং নাগরিকমুখী সেবা সম্প্রসারণ রয়েছে, বলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার।
তিনি বলেন, নরওয়ের সঙ্গে এই নতুন অংশীদারত্ব সংস্কারগুলোকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।
গণতান্ত্রিক শাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনআস্থার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য, বলেন বাংলাদেশে নরওয়ে রাষ্ট্রদূত হাকন অ্যারাল্ড গুলব্রান্ডসেন। বাংলাদেশে চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোকে এগিয়ে নিতে নরওয়ে সহায়তা দিতে পেরে সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
এই উদ্যোগ বিচার প্রশাসন আধুনিকায়ন, জবাবদিহি জোরদার এবং নাগরিক ও ব্যবসার জন্য বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
এই চুক্তির মাধ্যমে ইউএনডিপি ও নরওয়ে বাংলাদেশে আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


