পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। একইসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন কমিশনের চার কমিশনার।
তারা হলেন- কমিশনার মো. মোহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানান, ব্যক্তিগত কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন অরাজনৈতিক পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এর পরপরই মাকসুদের পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
মাকসুদ বলেন, ‘অস্থির এক সময়ে আমি ও আমার দল কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। দায়িত্ব নিয়েই আমরা আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করি।’
তার মেয়াদকালে মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়িং–সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিরীক্ষা এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত নেওয়ার জন্য প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন–এর দুটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান মাকসুদ।
তিনি বলেন, ‘বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন তদারকি ও প্রয়োগমূলক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের হস্তক্ষেপ দূর করে বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজন, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ইস্যুকারীদের আইনের শাসনের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের জন্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।’
‘একটি নবউদ্যমী ও পুনরুজ্জীবিত বিএসইসি দল এসব অর্জন সম্ভব করেছে। তারা আরও অনেক কিছু করার জন্য প্রস্তুত ছিল’, যোগ করেন মাকসুদ। সহকর্মী, বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সরকারের প্রতি সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দল দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে।’
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ৪ বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। কমিশনার হিসেবে একই বছরের ২ জুন মো. মোহসীন চৌধুরী, ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ নিয়োগ পান। সবশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হন মো. সাইফুদ্দিন।


