বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।
সিপিজে জানায়, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত দুই বছরে ক্ষমতার প্রতিটি পটপরিবর্তনের সঙ্গেই সাংবাদিকদের আটক, মামলা, নজরদারি ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মূলত সদ্য বিদায়ী সরকারের সমর্থক বা পক্ষাবলম্বনকারী হিসেবে বিবেচনা করেই সাংবাদিকদের ওপর এই প্রতিহিংসা চালানো হয়।
সম্প্রতি সারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রোফাইল তৈরির যে খবর গণমাধ্যমে এসেছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সিপিজে’র এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রতিটি নতুন সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০০ দিন শেষে এই ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো সীমিত।
তিনি আরও জানান, বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যমের ওপর থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের মাধ্যমেই সরকার এই চক্র ভাঙার কাজ শুরু করতে পারে।
সিপিজে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযুক্ত ২৮২ জন সাংবাদিকের একটি তালিকা হস্তান্তর করে। সে সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সিপিজে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি মৌখিক স্বীকৃতির বাইরে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।
এছাড়াও প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে ১০টি দাবি জানিয়েছে সিপিজে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) সাংবাদিকদের সম্পাদকীয় কাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার বন্ধ করা, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া প্রতিটি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, উগ্র জনতা বা রাজনৈতিক কর্মীদের হাত থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং বর্তমান সরকারের সময়ে আনা ‘সাইবার প্রটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৬’ সহ পূর্ববর্তী ডিজিটাল বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল বা সংশোধন করা।


