গণতন্ত্রের স্বার্থে একমত না হলেও ছাড় দিয়েছে বিএনপি: তারেক রহমান

গণতন্ত্রের স্বার্থে একমত না হলেও ছাড় দিয়েছে বিএনপি: তারেক রহমান
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ছবি: ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গণতন্ত্রের স্বার্থে ‘ঐকমত্য কমিশনে’ একমত না হলেও বিএনপি অনেক ছাড় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। বড় হলে সমস্যাও বেশি, দায়িত্ব অনেক, স্যাক্রিফাইসটাও বেশি। গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপি রাজপথে নেমেছে, এ ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখেই দলকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে।’

‘রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি আগেই দিয়েছে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনেও অনেক ছাড় দিয়েছে বিএনপি। অনেক বিষয়ে একমত না হলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে ছাড় দিয়েছে। যেন সবাই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়।’

বুধবার লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে এই বার্তা দিতে চাই যে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ভোটার যাতে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পান- তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে—যাতে কেউ এটি নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায়শই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে গুজব এবং কানাঘুষা শুনতে পাই। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার অনুসারী হিসেবে, বাংলাদেশ জুড়ে আমাদের সকল নেতাকর্মীকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন

বিএনপি নেতা বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অনেক নেতা-কর্মী নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, পঙ্গু হয়েছেন, নিহত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এবং জুলুমের শিকার হয়েছেন। ‘সুতরাং, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে- যাতে কেউ এই অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি শিগগিরই বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশে ফিরে দেখা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়- এমন কোনো কাজ না করার আহ্বান জানান।

দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনসমর্থন ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনার কোনো কাজ বা আচরণ যদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, তার প্রভাব শুধু আপনার ওপর নয়- পুরো দলের ওপর পড়বে। তাই দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি নেতাকর্মীকে বলছি—এমন কিছু করবেন না, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।’

তিনি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের তাদের ভালো কাজ এবং ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা অর্জনের নির্দেশ দেন।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের কোনো সহকর্মী কেন এমন কিছু করবেন, যা দলের ক্ষতি করতে পারে? আপনি যদি দেখেন, কোনো সহকর্মীর আচরণ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বা জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করতে পারে- তাহলে তা রোধ করা আপনার দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সদস্য বা নেতা হিসেবে প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা উচিত এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা উচিত।

তারেক বলেন, বিএনপির প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব কেবল গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করাই নয়, বরং দলের সুনাম নষ্ট করে এমন কোনো কিছু যাতে তারা বা তাদের কোনো সহকর্মী না করেন- তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘সকলকে এটা মনে রাখতে হবে। আজ, আমি দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে এই পবিত্র দায়িত্ব দিচ্ছি। যেকোনো মূল্যে দলের সুনাম রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে, তাদের কোনো প্রকার প্রশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়া যাবে না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad