ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ বাবদ মাসিক ফি আদায় বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, একই সেবার জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার পর আবার আলাদা করে মাসিক চার্জ আদায় আইনসম্মত নয়।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে রিটের জবাব চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় বর্জ্য অপসারণ ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য অর্থ আদায় করে। সেই অবস্থায় একই উদ্দেশ্যে ভ্যানসেবার মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসিক ফি নেওয়া দ্বৈত অর্থ আদায়ের শামিল এবং তা বন্ধ করা প্রয়োজন।
রিটকারী আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের মধ্যে ময়লা অপসারণের জন্য ৭ শতাংশ হারে অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাসে ১০০ বা ২০০ কিংবা ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, এভাবে বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা আদায় হলেও সেই অর্থ সিটি করপোরেশনের তহবিলে যুক্ত হয় না।
তিনি জানান, বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রিটটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আগে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। গত ১০ জুন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কাছে পৃথক আবেদন করা হয়, যাতে বাসাবাড়ি থেকে ময়লার বিল আদায় বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে চলতি মাসে স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।


