বাবার জানাজায় অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি

বাবার জানাজায় অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি
জানাজায় আলি খামেনির অপর তিন ছেলে—মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম খামেনি—বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নেন। ছবি: এপি/ ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনি তার বাবা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় উপস্থিত হননি।

জানাজায় আলি খামেনির অপর তিন ছেলে—মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম খামেনি—বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নেন। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে।

রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নিলেও নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন। যদিও ইরান সরকার তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন এবং এখনো চিকিৎসা ও নিবিড় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তাকে একটি অতি সুরক্ষিত গোপন স্থানে রাখা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ইরানজুড়ে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রোববার তেহরানে জানাজা শেষে তার মরদেহ রাজধানীতে শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কুম, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় স্থান এবং সবশেষে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের কর্মসূচি রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, শেষকৃত্যের বিভিন্ন আয়োজনে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না এলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত লিখিত বার্তায় তিনি সম্প্রতি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল দেখা গেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া কয়েকজন শোকাহত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে একবার হলেও দেখতে চেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad