রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সোমবার বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার জু রিসার্চ, এডুকেশন অ্যান্ড সার্ভে সেন্টারে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারলে চিড়িয়াখানাকে লাভজনক ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।’
‘আমরা রাষ্ট্রের ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, সেই আস্থা রক্ষা করাই লক্ষ্য। শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য আমরা এখানে আসিনি,’ যোগ করেন তিনি।
চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি পরিদর্শনে এসেছেন এবং জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে বিনোদনের সুযোগ সীমিত। ছুটি পেলেই মানুষ কক্সবাজারসহ দেশ-বিদেশে চলে যায়। তাই চিড়িয়াখানায় কোনো ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা আছে কি না, তা দেখতেই আমরা আকস্মিক পরিদর্শনে এসেছি।’
পরিদর্শনকালে বেদখল হওয়া চিড়িয়াখানার ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
চিড়িয়াখানায় অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন এবং প্রাণীদের খাবার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচর্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. বয়জার রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় চিড়িয়াখানার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন পরিচালক ড মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
এ সময় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়।
পরিদর্শনকালে কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামরুজ্জামান, ফখরুদ্দিন আহামেদ, মুহাম্মদ শাহাদাত খন্দকার, ভেটেরিনারি সার্জন মো. ওয়ালিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


