বাড়ি নির্মাণ সামগ্রীতে শুল্কের ধাক্কা

বাড়ি নির্মাণ সামগ্রীতে শুল্কের ধাক্কা
প্রতীকী
Advertisement
Advertisement

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নির্দেশিকায় বাড়ি নির্মাণ ও গৃহসজ্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ফলে নির্মাণসামগ্রী, ফিটিংস এবং আসবাব তৈরির কাঁচামালের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাড়ি নির্মাণ ও সাজসজ্জার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাজেট নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইট ও টাইলস তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল, পাইপ উৎপাদনের উপকরণ, বোর্ড তৈরির উপাদান এবং আসবাব শিল্পের প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘুমানোর তোশক বা ম্যাট্রেস তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রস্তুত পণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাজেট নথি অনুসারে, এসব পণ্যের আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত করের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়বে, যার ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ, ফ্ল্যাটের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং আসবাবপত্র কেনার খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণ ও গৃহসজ্জা খাতে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বাড়লে আবাসন খাতেও এর প্রভাব পড়বে। এতে ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি ফ্ল্যাটের মূল্য এবং সংস্কার ব্যয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসন ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

সিরামিক সামগ্রী ও প্লাস্টারে শুল্ক বৃদ্ধি

বাড়ি নির্মাণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ইট ও টাইলস। বাজেটে সিরামিক ইট, ব্লক এবং টাইলস-এর ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেয়াল ও ছাদের ফিনিশিংয়ের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত জিপসাম প্লাস্টার-এর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ভবনের গাথুনি ও ফিনিশিংয়ের প্রাথমিক খরচ বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে।

বাড়ির স্যানিটারি কাজের অপরিহার্য উপাদান তামার টিউব বা পাইপ। বাজেটে তামার টিউব এবং পাইপ-এর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দরজা, কেবিনেট এবং ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে ব্যবহৃত এমডিএফ বোর্ড-এর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে ফ্ল্যাট বা বাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা এবং আসবাব তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

ঘুমানোর সামগ্রীতে নতুন সম্পূরক শুল্ক

শুধু বাড়ি নির্মাণই নয়, ঘুমানোর সামগ্রীও বাদ পড়েনি শুল্ক বৃদ্ধির তালিকা থেকে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের তোশক, স্লিপিং ব্যাগ এবং কুইল্ট-এর ওপর আগে কোনো সম্পূরক শুল্ক ছিল না। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, একে তো নির্মাণসামগ্রীর বাজারে এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, তার ওপর বাজেটে নির্দিষ্ট করে সিরামিক টাইলস, বোর্ড ও পাইপের মতো পণ্যে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি আবাসন খাতকে আরও চাপে ফেলবে।

বিশেষ করে যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন, বাজেটের এই শুল্ক নীতি তাদের নির্মাণ বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad