আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে বিরতির সময় নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে দেশের ৫৬তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাজেটের বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা একটি ভালো বাজেট দিতে যাচ্ছি। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা এই বাজেটে থাকবে। ছাত্র, শ্রমিক, কামার, কুমার থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—কেউই বাদ যাবে না।’
তিনি জানান, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করছে।
তিনি আরও জানান, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করতে কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায়ও বাজেটে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকবে বলে আভাস দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলোও বাজেটে প্রতিফলিত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেট প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীকে টানা দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজেটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীকালের বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের জন্য সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, রাজস্বনীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।


