বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা হয়। জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ।
জানাজা শুরুর আগে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।’
সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘যে ঘরে আজ আনন্দের উৎসব থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।’ তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জানাজার আগ মুহূর্তে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী সন্তান, বাবা-ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনে পক্ষের চারজনের জানাজা খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মাইক্রোবাসচালক নাইমকে দাফন করা হয়েছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান ছাব্বিরের। কনের বাড়িতে বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নববধূসহ কয়রা থেকে বাগেরহাটের মোংলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বরযাত্রীরা। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন ওঠেন একটি মাইক্রোবাসে। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
জানাজায় অংশ নিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


