বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এ বিধিনিষেধ আগামী বছর জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে এ বিষয়ে আমিরাত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিসা নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশ উগান্ডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) ওরিয়েম হেনরি ওকেলো চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছেন, তাদের কিছু শ্রেণির নাগরিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বন্ধ থাকছে। তিনি বলেছেন, এটি সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নয়। নির্দিষ্ট শর্তে কিছু মানুষ ভিসা পেতে পারেন, তবে ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার ঝুঁকি কম এমন ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ইউএইভিসাঅনলাইন ডট কম জানিয়েছে, আমিরাতের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডার নাগরিকরা আপাতত ভ্রমণ, কাজ বা ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন করতে পারবেন না।
আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া ভিসা ব্যবহার, ভিসার মেয়াদ শেষে থেকে যাওয়া, জাল পাসপোর্ট বা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করার মতো বিষয়গুলো নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে যারা বৈধ ভিসা নিয়ে ইতিমধ্যে আমিরাতে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। কিন্তু নতুন চাকরি, কাজের অনুমতি নবায়ন বা ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রবাসীদের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের বহু প্রবাসী সমস্যায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতি কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। যদিও উগান্ডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের সরকার এখনই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আলোচনায় যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং সেটি আমিরাত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আংশিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা আগেই কার্যকর ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা প্রবাসীদের ওপর আরও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


