বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরূদ্ধে নবীনকে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এর আগে, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-একই বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘গত বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে উপস্থিত হই। আমরা মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলাম। পরে তারা আমাদেরকে রাত সাড়ে ৯টার বাসে করে টোল প্লাজার নিকট অবস্থিত ইমিডিয়েট সিনিয়র নেহাল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পর আমাদেরকে তিনতলা কক্ষে উঠিয়ে গেট আটকে দেয়। এরপর আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নেওয়া হয়। যাতে আমরা কোনো প্রমাণ রাখতে না পারি। তারপর আমাদের এক ব্যাচমেটকে ইন্ট্রো দেওয়ার জন্য বলে, তখন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা বেজে যায়। আমি এক সিনিয়র ভাইকে বলি, ভাই ১১টায় তো আমাদের বাসার গেট বন্ধ করে দেয়। তারপর উনি সবাইকে এ বিষয়টা বলে। এটা শোনার পর নেহাল ভাই আমাকে দাঁড় করিয়ে শামীম ভাই আর সপ্নীল ভাই এর হাতে তুলে দেয় র্যাগ দেওয়ার জন্য। সপ্নীল ভাই তখন আমাকে জঘন্য ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করতে দেয়। আমি না বললে আমাকে বলে “যদি তুই আবৃত্তি না করিস তাহলে তুই মেন্টাল, তোর মাথায় সমস্যা”, “আমার বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ” করা হয়।
এগুলো শুনে আমার কান্না চলে আসে। আমার চোখে পানি দেখে শামীম ভাই বলে ‘তুই সিম্পেথি পাওয়ার জন্য’ কান্না করতেছোস। তাই তুই ফ্লোরে বসে ১০ মিনিট কান্না করবি এখন। তারপর আমাকে তারা কবিতার এক্সপ্রেশন করার কথা বলে, যেখানে আমাকে মেয়ে আর আমার দুইজন সহপাঠীকে ছেলে ক্যারেক্টার বানায়, আমাদেরকে ফিজিক্যাল রিলেশনের অভিনয় করতে বলে। এটা আমি নিতে পারছিলাম না। তাই আমি বের হয়ে আসার চেষ্টা করি। শামীম ভাই তখন লাঠি নিয়ে আসে আমাকে মারতে। নেহাল ভাই বলে, তুই যদি এ রুমের বাহিরে যাস তাহলে তোরে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলব। তখন আমি আর কি করব বাধ্য হয়ে হাঁটু গেরে শামীম ভাই এর কাছে মাফ চাই।’
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘সপ্নীল ভাই আমাকে এক পায়ে দাঁড়াতে বলে। পরে মিরাজ ভাই আর ইমন ভাই আমাকে ওয়ান কোয়ার্টার প্যান্ট দিয়ে বলল “এটা পড়ে নাচ”। আমি তখন বলি, ভাই আমি একটু ওয়াশরুমে যাবো প্রশ্রাব করতে। তারা আমাকে একটি বোতল দিয়ে বলে সবার সামনে রুমের মধ্যেই প্রশ্রাব কর। বহু কষ্টে আমি যখন ওয়াশরুমে যাই তখন সপ্নীল ভাই বলল “দরজা খোলা রেখে প্রশ্রাব কর”। কিন্তু আমি ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করেই অনেকক্ষণ কান্না করি। ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্নীল আর ইমন ভাই বলল “শার্ট আর প্যান্ট খোল, তারপর মাস্টারবেশন কর”। আমাকে তারা শীতের রাতে শেষ পর্যন্ত শার্ট খুলতে বাধ্য করে। এরপর স্বপ্নীল ভাই আমাকে একটা বিস্কিট দিয়ে বলে “কুকুরের মতো চেটে চেটে খা” পরে আমি অনেক কান্না করি বসে বসে। এরপরও তারা আমাকে অনেক মানসিক নির্যাতন করে।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুস্তাকিম মজুমদার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। ওইখানে একটু রাগারাগি হয়েছে, র্যাগিং করা হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


