চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের জন্য সুখবর হতে পারে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে এর চুক্তিপ্রক্রিয়া ও শর্তের সব তথ্য প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
একইসঙ্গে বন্দরের কার্যকরিতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পুরোনো টার্মিনালের অপারেটর নিয়োগের দৃশ্যত তড়িঘড়ি উদ্যোগগুলো এড-হক ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে নাকি বন্দর উন্নয়ন বিষয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে করা হচ্ছে; তা স্পষ্ট করতেও আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি ডেনমার্কের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর সঙ্গে যথাক্রমে লালদিয়া ও পানগাঁও চুক্তি সম্পাদনের প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে টিআইবি।
চুক্তির তথ্য প্রকাশের দাবির বিষয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তারা কিন্তু এখানে জনসেবা বা চ্যারিটি করতে আসেনি। তাদের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মুনাফা অর্জন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সরকারকেও আমাদের দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি ও জাতীয় স্বার্থকে বিবেচনায় নিতে হবে ‘
‘এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা অর্জনের পুঙ্খনাপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ জরুরি।’
যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি সই হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের কাজের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে কিনা, সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে এবং দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ধরনের প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক শর্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা, তাও প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করে টিআইবি।
একইসঙ্গে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মানদণ্ডে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে এপিএম টার্মিনালসকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও জনগণের জানা প্রয়োজন বলে মত ড. ইফতেখারুজ্জামানের।
চুক্তি সইয়ের আগে দেশীয় অংশীজনের মতামতকে কতটা মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।


