প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বনে অবমুক্ত করা হয়েছে বিরল প্রজাতির চারটি মুখপোড়া হনুমান। যার মধ্যে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুটি বাচ্চা।
বুধবার বিকালে হনুমানগুলোকে বনে ছেড়ে দেয় হবিগঞ্জ বন বিভাগ।
পাচারকারীরা বনে ফাঁদ পেতে হনুমানগুলো শিকার করেছিল বলে ধারণা বন বিভাগের। পরে সেগুলো উদ্ধার করে ঢাকার সাফারি পার্কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর এক মাস শ্রীমঙ্গলের জানকিছড়া রেসকিউ সেন্টারে পরিচর্যা করা হয়।
সুস্থ হওয়ার পর এবং বনে বসবাসের উপযোগী মনে হওয়ার পরই হনুমানগুলোকে সাতছড়িতে অবমুক্ত করা হলো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক জামেল মোহাম্মদ খান, রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ, ফরেস্ট গার্য শেখ মিজানুর রহমানসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী মুখপোড়া হনুমান সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। তাই এ প্রাণী হত্যা বা ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বনে মানুষের প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী নিধনের কারণে দেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
বন বিভাগ জানিয়েছে, মুখপোড়া প্রজাতির হনুমান গাছের কচিপাতা, শাকসবজি, ফলমূল ও ফুল খেয়ে বাঁচে। এরা সাধারণত লোকালয়ের আশপাশে বসবাস করে। ফলে ধীরে ধীরে মানুষের খাবারের প্রতিও অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও গবেষক জোহরা মিলান জানান, দেশে তিন প্রজাতির হনুমানের দেখা মেলে। এর মধ্যে একটি হলো মুখপোড়া হনুমান বা হনুমান লাঙ্গুর। বনে এদের গড় আয়ু ১৮ থেকে ৩০ বছর। জুলাই-অক্টোবর বা কখনো ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান সাধারণত ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর এক থেকে দুটি বাচ্চা প্রসব করে।


