গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লেখক, গবেষক ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এই দাবি জানান তিনি।
বদরুদ্দীন উমরকে স্মরণ করে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশের গণমানুষের মুক্তির কথা চিন্তা করেছেন। তিনি আমৃত্যু মুজিববাদী সংবিধানের বিরুদ্ধে ছিলেন। এই সংবিধানকে তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত মনে করতেন। আমরাও জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে মুজিববাদী সংবিধানের মূলোৎপাটনের কথা বলছি।’
‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর একজন স্বাধীন বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিলেন। এই সময়ে তাকে বড় প্রয়োজন ছিল। তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো, ইতিহাস পরিবর্তনের বাঁকগুলো নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন বদরুদ্দীন উমর। নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি বাতিঘর হয়ে থাকবেন।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর ছিলেন বামপন্থী রাজনীতির প্রবাদপুরুষ। তিনি শুধু একজন শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন না, তিনি রাজনীতির আকাশে ছিলেন এক ব্যতিক্রমী নক্ষত্র। তিনি সারাজীবন মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করেছেন। তার রাষ্ট্রচিন্তা, সমাজচিন্তা, সমাজের ধারা বদলের চিন্তা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চলার পথের পাথেয়।’
বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্মগুলোকে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, কৃষকদের অধিকারের জন্য লড়াই, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকাসহ রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে বদরুদ্দীন উমর নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। একজন দেশপ্রেমিক বৃদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণমানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। জোহরের নামাজের পর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জুরাইন কবরস্থানে খ্যাতিমান পিতা আবুল হাশিমের পাশে সমাহিত করা হয় বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ।


