ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে পাকশী রেলওয়ের কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সান্তাহার ও আক্কেলপুরের মাঝামাঝি তিলকপুর স্টেশনসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকার সঙ্গে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি বগি কাত হয়ে পড়ে এবং কিছু বগি লাইনচ্যুত হলেও সম্পূর্ণ উল্টে যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার সময় ওই লাইনে মেরামতকাজ চলছিল এবং শ্রমিকরা পাথর বসানোর কাজ করছিলেন। সিগন্যালসংক্রান্ত বিভ্রাট বা ভুল বোঝাবুঝির কারণেও দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটিতে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ ছিল। অনেক যাত্রী ছাদে ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় দ্রুত নামতে গিয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত যাত্রী আহত হয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি নেয়। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন।
সান্তাহার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলো উদ্ধারে ইতোমধ্যে পাবনার ঈশ্বরদী ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।


