ইরানের সামরিক স্থাপনায় ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। দুইপক্ষের মধ্যে চলমান শান্তিচুক্তি আলোচনার মধ্যেই সোমবার পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো উত্তেজনা বাড়ল। কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের চুক্তি নিয়ে সপ্তাহান্তে দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই সবশেষ সংঘাত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে বিবিসি জানায়, ‘আগ্রাসী ইরানি কর্মকাণ্ডের’ জবাবে তারা (সেন্টকম) ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর একটি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাও ছিল।
এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ও দুটি ড্রোনে হামলা চালিয়েছে। এগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে ঘাঁটিটির অবস্থান তেহরান নির্দিষ্ট করেনি।
আইআরজিসির দাবি, ওই বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরের সিরি দ্বীপে তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছিল। দ্বীপটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) দূরে অবস্থিত।
এদিকে কুয়েত জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সোমবার ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের’ হামলা মোকাবিলা করছে। তবে তারাও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠে।
সে থেকেই ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন বিমান ঘাঁটিটির অবস্থান কুয়েতে।
আইআরজিসির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, হরমুজ প্রণালি ও ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন আগ্রাসনের ‘পুনরাবৃত্তি’ ঘটলে তাদের প্রতিক্রিয়া ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’ হবে।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবন্ধের আলোচনায় উল্লেখিত বেশ কয়েকটি শর্তে দুইপক্ষ একমত হতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিবারই তারা একে অপরকে চুক্তির শর্তাবলী শিথিলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই পরিবর্তনগুলো হরমুজ প্রণালির নৌপথ ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে সোমবার ভোরে ট্রুথ সোশ্যালের দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমালোচকদের ‘আরাম করে বসে থাকতে’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শেষপর্যন্ত সবকিছু ভালোর দিকেই যাবে। ইরান সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ভালো চুক্তি হবে।’
রোববার ইরানের প্রধান আলোচক ইসমাইল বাঘাই এক হুঁশিয়ারিতে বলেন, ইরানিদের অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।
শনিবার ও রোববার ইরানের দক্ষিণ উপকূলের নিকটবর্তী গোরুক শহর ও হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ইরানি রাডার এবং ড্রোনের কমান্ড ও কন্ট্রোল সাইটগুলোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘আত্মরক্ষামূলক হামলার’ পর এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে, আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা শুক্রবার বৈঠকে বসেন। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্টতা ছাড়াই ওই বৈঠকটি শেষ হয়। পরে খবর আসে, প্রেসিডেন্ট খসড়াটিতে পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছেন।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সবশেষ শর্তগুলোর মধ্যে ৬০ দিনের জন্য সহিংসতা বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


