কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হলো পাহাড়ের সবচে বড় বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু সামাজিক উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের উচ্ছ্বাস।
হাতে কলা পাতা ও বাহারি রঙের ফুল, জঙ্গলের ফুলসহ বিভিন্ন ফুলের সমারোহে উৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের তরুণ-তরুণীরা। ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির লাল-কালো রঙের পিনোন-হাদি পোশাক পরে উৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের সব শ্রেণির মেয়েরা। এটি পাহাড়ি জনগণের প্রাণের উৎসব। প্রত্যেক বছর উৎসবে প্রাণে প্রাণে তৈরি হয় উচ্ছ্বাসের বন্যা। সম্মিলন ঘটে পাহাড়ে বসবাসকারী সব জাতিগোষ্ঠী মানুষের।
রবিবার সকালে রাঙামাটি রাজবন বিহার বেইনঘর ঘাটে, পরওয়েল পার্ক, কেরানী পাহাড় ও বালুচরসহ বিভিন্ন জায়গায় স্ব স্ব উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে বিঝুকে নতুন রূপে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
প্রথম দিনে অর্থাৎ নদীতে ফুল বিসর্জনকে চাকমারা ফুলবিঝু, মারমারা পাইংছোয়াই, ত্রিপুরারা হারিবৈসুক বলে থাকেন। দ্বিতীয় দিনকে অর্থাৎ মূল উৎসবটিকে চাকমারা মুলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা এবং তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে দিন, মারমারা সাংগ্রাই আপ্যাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করে থাকে ঘরে ঘরে।
ফুলবিঝু দিনে ভোর সকালে ফুল সংগ্রহ করে একভাগ গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্য আরেক বাড়ি সাজানোর জন্য রেখে দেয়। বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করে সেই সংগ্রহ করা ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এছাড়াও ফুল বিঝু দিনে অথ্যাৎ উৎসবের প্রথম দিনে বৌদ্ধ মন্দির, বুদ্ধমূর্তি পরিষ্কার করে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানায়। সন্ধ্যাবেলায় বিহারে ও বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন।


