ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জন হয়েছেন।
দেশটির দুর্যোগ-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বুধবার এ খবর জানান। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও পানি-বিদ্যুতের সংযোগ আবার চালু করার চেষ্টা করছে ফিলিপাইন সরকার।
মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্পটি কেন্দ্রীয় ফিলিপাইনের সেবু প্রদেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বুধবার সকালে সেবু প্রদেশ ‘আঞ্চলিক দুর্যোগ’ ঘোষণা করেছে। কারণ, হাজার হাজার বাসিন্দা পরবর্তী শক্তিশালী আফটারশকগুলোর মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
সেবু এলাকার একজন বাসিন্দা বিবিসিকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, এবং আতঙ্কিত শিশুরা রাতব্যাপী কান্নাকাটি করেছে । ‘এ অঞ্চলের সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে,’ তিনি বলেন।
দুর্যোগটি গত সপ্তাহে ধারাবাহিক টাইফুনের আঘাতে মৃত্যু হওয়া এক ডজনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বোগো শহরের নিকটবর্তী একটি ছোট শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
এ এলাকা থেকে পাওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তায় মরদেহ বহনের ব্যাগ রাখা হয়েছে এবং শত শত আহত মানুষকে অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই বিপর্যয়ের ব্যাপকতা ‘অত্যন্ত ব্যাপক’।
বার্তা সংস্থা এপি খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সেন্ট্রাল সেবুর বোগো শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূমি থেকে কেবল পাঁচ কিলোমিটার গভীরে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রেক্স ইগট জানান, প্রায় ৯০ হাজার জনসংখ্যার উপকূলীয় এই শহরেই অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিকম্পের কারণে গোটা শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রেক্স ইগট বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পাহাড় ঘেরা। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও পাথরগড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে।’
সেবু গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র সকাল না হওয়া পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারে। বাস্তব চিত্র এবং হতাহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
সেবুর ফায়ার কর্মীরা জানান, স্থানীয়রা এখনো ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকেই খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন। সান রেমিজিও শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।
সেবু ছাড়াও মেদেলিন শহরে বাড়ির দেওয়াল ও ছাদ ধসে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ভূমিকম্পের সময় সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সান রেমিজিও শহরে বাস্কেটবল খেলা চলাকালীন ভূমিকম্পের আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করলে দেয়াল চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে তিনজন কোস্টগার্ড সদস্য, একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও এক শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে শুক্রবারে সেবু ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’ আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।


